আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ:
মুন্সীগঞ্জে এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় খোকন নামে একজনকে মৃত্যুদন্ডের রায় দিয়েছে আদালত। ২৪ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালের বিচারক ফাইজুন্নেসা এ রায় দেন। এ সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তথ্য সুত্রে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালি গ্রামের আ.মতিনের ছোট মেয়ে বাড়ৈখালি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী লায়লা আক্তার লিমু (১৭) ২০১৮ সালের ২৮ আগস্ট বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে কাপড় ক্রয় করার জন্য বাড়ি হতে পাশে বাড়ৈখালী বাজারে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরে নিখোঁজের ৩ দিন পর ৩১ আগস্ট বাড়ৈখালী বাজারের পাশে ইছামতি নদীর পাড়ে একটি বস্তাবন্দী অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। লাশ পাওয়ার পরে আসামি খোকনের বাড়ৈইখালী বাজারের টেইলার দোকানে রক্তের গন্ধ পেয়ে স্থাণীয়রা বিষয়টি নিহতের পরিবারকে জানালে নিহতের পরিবার পুলিশ নিয়ে গিয়ে দোকান মালিক খোকনকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় মামলা দায়ের করে। পরে আসামি খোকন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে ২০ জন স্বাক্ষীর জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত আসামিকে মৃত্যূদন্ডের রায় দেন। এ বিষয়ে নিহতের ফুফু নাসরিন জানান, দুই ভাই ও ২ বোনের মধ্যে লায়লা সবার ছোট ছিলো। ও সব সময় খোকনের দোকানে কাপড় বানাতোঁ। ঘটনার দিন কাপড় বানাতে গেলে তাকে ধর্ষণ করে হত্যা করে। পরে লাশ গুম করার জন্য বস্তায় ভরে পানিতে ফেলে দেয়। রাষ্ট্র পক্ষের পিপি এডভোকেট লাভলু মোল্লা জানান, ভিকটিমকে ধর্ষণ করে খুন করার অভিযোগে ২০ জন স্বাক্ষীে এবং প্রমানের ভিত্তিতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় আসামিকে দন্ডবিধির ৩০২ ধারায় মৃতূদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জড়িমানা করেছে আদালত। এছাড়াও দন্ডবিধির ২০১ ধারায় ৭ বছর কারাদন্ড ও ৭ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেছে। আমি রাষ্ট্র পক্ষের পিপি হিসাবে এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি।
আলোকিত প্রতিদিন/ ২০ আগস্ট ২৩/মওম
- Advertisement -

