প্রতিনিধি,ময়মনসিংহ:
বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার ৬০ ও ৭০ দশকের রাজনীতির পুরোধা এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, মুজিব বাহিনীর কমান্ডার, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদকারী কারা নির্যাতিত আওয়ামীলীগ নেতা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত শামছ উদ্দিন আহমেদের কবর জিয়ারত করেছেন ডাক,টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। সোমবার বিকেলে গফরগাওঁ উপজেলার লংগাইর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত শামছ উদ্দিন আহমেদের কবর জিয়ারত করেন তিনি। কবর জিয়ারত শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত শামছ উদ্দিন আহমেদের স্মৃতিচারণ করে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী জানান, শামছ উদ্দিন ছিলেন বঙ্গবন্ধুর অতিপ্রিয় ও আস্থাভাজন এবং যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ ফজলুল হক মনির সাথে ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তিনি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে রাজনৈতিক কারণে বহুবার ভারত সফর করেন এবং একই সাথে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন করার জন্য বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে যে রাজনৈতিক দলটি তৎসময়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া) সফর করেন তার মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। শামছ উদ্দিন আহমেদ ছিলেন একজন আপাদমস্তক আদর্শ রাজনীতিবিদ। বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত শামছ উদ্দিন আহমেদের বড় ছেলে শফিউল আমিন মাসুদ বাবার সম্পর্কে বলেন, বৃহত্তর ময়মনসিংহে তৎসময়ে যারা বাবার সাথে কিংবা পরবর্তী সময়ে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন তাদের মুখে বাবার রাজনীতি সম্পর্কে অনেক গল্প শুনেছি, বাবার আদর্শ, সততা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম,ছাত্রলীগ গঠনে অবদান, মুক্তিযুদ্ধে অবদান, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে বাবা যে ভূমিকা রেখেছিলেন, তার স্বীকৃতিস্বরূপ আমরা যে, স্নেহসুলভ সম্মান পেয়েছি তাতে আমরা গর্ববোধ করি। বাবা বীরমুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত শামছ উদ্দিন আহমেদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ছোট ছেলে সামিউল আমিন বলেন, বাবার সাথে আমার স্মৃতিগুলো অনেক বেদনাদায়ক। কারণ, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার প্রতিবাদ করায় বাবা কারা নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিছানায় শয্যাশায়ী ছিলেন। বাবার সেই দিনগুলো আমাকে এখনো কাঁদায়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমার বাবা যেভাবে রাজনীতি শুরু করেছিলেন, আমি ঠিক তেমনি বাবার সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ-তিতিক্ষা ও আদর্শ বুকে ধারণ করে ছাত্র জীবন থেকে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে নিজের রাজনৈতিক জীবন শুরু করি। বাবার পথ অনুসরণ করে বঙ্গবন্ধু তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণে সাংগঠনিকভাবে কাজ করে চলেছি। বাবার মৃত্যুর ৩৬ বছরে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জেলা-উপজেলা এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের অসংখ্য ভালবাসা ও স্নেহের স্পর্শ পেয়েছি, যা আমার রাজনৈতিক জীবনকে আরও মসৃণ করে তুলেছে। উল্লেখ: বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত শামছ উদ্দিন আহমেদের বড় ছেলে শফিউল আমিন মাসুদ রাজনৈতিক জীবনে গফরগাঁও উপজেলা ছাত্র লীগের সাবেক সহসভাপতি ও আব্দুর রহমান ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের আহবায়ক ছিলেন। ছোট ছেলে সামিউল আমিন ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সম্পাদক এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবে সাংগঠনিক কাজ করে যাচ্ছেন।
আলোকিত প্রতিদিন/১০ অক্টোবর ২৩/মওম
- Advertisement -

